আপডেট

বাইতুল হিকমাহ আল আরজাল লাইব্রেরি

বাইতুল হিকমাহ  আল আরজাল লাইব্রেরি
  • ইসলামি জ্ঞান ও সাধারণ শিক্ষায় আগ্রহী জনসাধারণের জন্য একটি মুক্ত পাঠাগার।নামের পরিচয় ও তাৎপর্যঃ

    বাইতুল হিকমাহ্ : অর্থ “জ্ঞানের ঘর” — আব্বাসীয় খিলাফতের যুগে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জ্ঞানকেন্দ্রের নামানুসারে নামকরণ, যেখানে বিশ্বের সেরা পণ্ডিতরা জ্ঞান চর্চা করতেন।

    আল আরজাল: অর্থ “শ্রেষ্ঠ” বা “উৎকৃষ্ট” — এই লাইব্রেরিকে জ্ঞান, গবেষণা ও পাঠের ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় থেকে এই নামটি গ্রহণ করা হয়েছে।  আরো উল্লেখ্য যে, আ- আরজ আলী, র= রাবেয়া খাতুন, জ= জুবেদ আলী ও লুনা লায়লা এর চার জন সম্মানিত ব্যক্তিগণের নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে তৈরী কর হয়েছে।

     

    প্রকল্পের পটভূমিঃ-

    ইসলামের সোনালি যুগে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও গবেষণায় পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সেই ঐতিহ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভাটি সাভার অঞ্চলে একটি সমৃদ্ধ ইসলামী পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এলাকার ছাত্র, আলেম, গবেষক ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি মানসম্পন্ন পাঠাগারের অভাব ছিল দীর্ঘদিন ধরে। বাইতুল হিকমাহ্ আল আরজাল লাইব্রেরি সেই শূন্যতা পূরণ করতে এগিয়ে এসেছে।

     

    প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ-

    • লক্ষ্য ০১: ইসলামী জ্ঞান ও গবেষণার একটি সমৃদ্ধ কেন্দ্র গড়ে তোলা
    • লক্ষ্য ০২: শিক্ষার্থী, আলেম ও গবেষকদের জন্য রেফারেন্স সুবিধা নিশ্চিত করা
    • লক্ষ্য ০৩: এলাকার সকল মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস ও জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ তৈরি করা
    • লক্ষ্য ০৪: ইসলামী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সংরক্ষণ ও প্রচার করা

     

    গ্রন্থসংগ্রহ ও বিভাগসমূহঃ-

    • বিভাগ ০১: কুরআন ও তাফসীর গ্রন্থাবলি
    • বিভাগ ০২: হাদীস ও হাদীস বিজ্ঞান
    • বিভাগ ০৩: ফিকহ ও ইসলামী আইন
    • বিভাগ ০৪: আকিদা ও কালাম শাস্ত্র
    • বিভাগ ০৫: সীরাত ও ইসলামী ইতিহাস
    • বিভাগ ০৬: আরবি ভাষা ও সাহিত্য
    • বিভাগ ০৭: বাংলা ইসলামী সাহিত্য
    • বিভাগ ০৮: শিশু ও কিশোর উপযোগী বই
    • বিভাগ ০৯: সাধারণ জ্ঞান ও বিজ্ঞান

    লাইব্রেরির সুযোগ-সুবিধা ও কার্যক্রমঃ-

    • মুক্ত পাঠকক্ষ— যেকোনো শিক্ষার্থী, আলেম বা সাধারণ পাঠক বিনামূল্যে এসে পড়াশোনা করতে পারেন, শান্ত ও আলোকিত পরিবেশে।
    • বই ইস্যু সেবা— নিবন্ধিত সদস্যরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বই ধার নিয়ে বাড়িতে পড়তে পারেন।
    • গবেষণা সহায়তা— মাদরাসার ছাত্র ও গবেষকদের রেফারেন্স বই, কিতাব ও তথ্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়।
    • বই উপহার গ্রহণ— যে কেউ মূল্যবান বই দান করে লাইব্রেরির সংগ্রহ সমৃদ্ধ করতে পারেন — এটি সদকায়ে জারিয়াহর সুযোগ।
    • পাঠ আলোচনা ও সেমিনার— নিয়মিত বই পর্যালোচনা, দ্বীনি আলোচনা এবং জ্ঞানমূলক মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
    • শিশু পাঠ কার্যক্রম— শিশুদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে বিশেষ শিশু পাঠকোণ ও গল্প বলার অনুষ্ঠান পরিচালিত হয়।

     

    সুবিধাভোগী ও প্রভাবঃ-

    • মাদরাসার শিক্ষার্থী
    • স্থানীয় আলেম-উলামা
    • স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী
    • গবেষক ও লেখক
    • সাধারণ পাঠক

    “জ্ঞান অর্জন করা প্রতিটি মুসলমানের উপর ফরজ।” — (ইবনে মাজাহ)

    বাইতুল হিকমাহ্ আল আরজাল লাইব্রেরি সেই ফরজ আদায়ের পথকে সহজ করতেই প্রতিষ্ঠিত — যেখানে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়বে প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি হৃদয়ে।

     

    বই দান করুন, সদকায়ে জারিয়াহ অর্জন করুন।

    একটি বই দান করুন — তা হয়তো শত শত মানুষ পড়বেন, জ্ঞান অর্জন করবেন, জীবন গড়বেন। প্রতিটি পাঠক যখন সেই বই থেকে উপকৃত হবেন, তার সওয়াব আপনার আমলনামায় যোগ হতে থাকবে কিয়ামত পর্যন্ত। আপনার সংগ্রহের পুরনো বা নতুন ইসলামী কিতাব, গবেষণাগ্রন্থ বা যেকোনো মূল্যবান বই আমাদের কাছে পাঠান অথবা লাইব্রেরি সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করুন।


হোয়াটসাঅ্যাপ চ্যাট
মেসেঞ্জার চ্যাট
লোডিং হচ্ছে...